আর্থিক ঋণের মানসিকতা আমাদের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং ঋণ ফেরতের সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ কিভাবে ঋণ নেয়, কেন নেয়, এবং কিভাবে তারা এটি পরিশোধ করে, সবই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
মানসিকতা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে একটি মূখ্য ভূমিকা পালন করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঋণগ্রহিতারা যাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তারা অপেক্ষাকৃত সহজভাবে ঋণ পরিশোধ করে। (গবেষণা, 2020)। অর্থাৎ, যদি আপনি ঋণ পরিশোধকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন, তবে সেটি আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
ঋণগ্রহণ করা আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষার জন্য অথবা গৃহ কেনার উদ্দেশ্যে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, 70% মানুষ তাদের ঋণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত। তবে, ঋণের প্রতি আমাদের মনোভাব সাধারণত নেগেটিভ। এটি সময়ের মধ্যে আরও খারাপ হতে পারে যখন মানুষ ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ফেলতে থাকে।
ডেভিড ওজনবোর্গের (2018) মতে, মানুষ ঋণগ্রহণের সময় "এবারের জন্য" মানসিকতা গ্রহণ করে। তারা ঋণ নিয়ে সচ্ছলতা অনুভব করে, কিন্তু পরে যখন তা পরিশোধের সময় আসে, তখন তাদের মনে ভয় ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এটি ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।
নমিতা নামের একটি তরুণী, যিনি উঁচু শিক্ষার জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। প্রথমদিকে সবকিছু সহজ ছিল। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতির কারণে তাঁর কর্মক্ষেত্রে সমস্যা এলে, তিনি ঋণ পরিশোধ চালিয়ে যেতে পারেননি। তার ধারণা ছিল যে, ঋণ পরিশোধের চিন্তা তাকে অভাবের দিকে ঠেলে দেবে। ফলস্বরূপ, তার মানসিক চাপ বেড়ে গেল এবং এটি তার কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করল।
স্টেট ব্যাংক অফ ভারত এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, 65% তরুণ যুবক ঋণের পরিমাণের জন্য মানসিক চাপ অনুভব করে। এই তথ্যাদির মাধ্যমে বোঝা যায় যে, ঋণের কারণে মানুষ কতটা উদ্বিগ্ন থাকে। যদি আমরা ঋণের প্রতি স্বাস্থ্যকর একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারি, তবে এটির পরিণতি পরিবর্তন সম্ভব।
দানশীল এক অর্থনীতিবিদ জানিয়েছেন, “ঋণের চাপ কমানোর জন্য, মানুষে নিজেকে সমাজের সঙ্গে যুক্ত মনে করতে সাহায্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।” কম্পেলেজিটি থিওরি অনুসারে, যখন মানুষ অন্যদেরকেও সাহায্য করে, তখন তাদের মনে হতাশা অনেক কম হয়। এই ঘটনা আমাদের ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজতর করতে পারে।
তবে, ঋণ পরিশোধের মানসিকতা পরিবর্তন করা সবসময় সহজ নয়। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ। একটি পেমেন্ট পরিকল্পনা তৈরি করা এবং এটি অনুসরণ করা মানসিক চাপ কমানোর একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে।
এবার আসুন ভাস্করের গল্প বলি। তিনি আদায় করেছেন যে, ঋণ পরিশোধ সম্পর্কে তার নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পরই তিনি সফল হয়েছেন। তিনি জানান, “আমি প্রতিদিন নিজেকে এই ভাবনায় ডুবিয়ে রাখতাম যে, ঋণ পরিশোধ করা আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি ঠিক সময়ে পরিশোধ করবো, আর এভাবেই চলতে থাকবে।”
মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে মানসিক চাপের কথা বলা হয়, তবে মানসিক চর্চার গুরুত্ব কমই আলোচিত হয়। যে কেউ যে ঋণ পরিশোধ করছে, তাকে একটি ডেইলি রুটিন তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যেখানে মানসিক প্রশান্তির জন্য নিয়মিত মেডিটেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, মেডিটেশন ঋণের চাপ হ্রাসে কার্যকর।
অবশেষে, ঋণের মানসিক দিকগুলি অধিকাংশ মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। একটা শক্তিশালী মানসিকতা তৈরি করা এবং ঋণ পরিশোধের জন্য সুস্থ পরিকল্পনা তৈরি হওয়া ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে পারে। মনে রাখবেন, ঋণ শুধু অর্থের ব্যাপার নয়, এটি একটি মানসিক খেলা। আপনি যদি শক্তিশালী এবং ইতিবাচক মনোভাব রাখতে পারেন, তবে সাফল্য আপনাকে প্রত্যাশার বাইরে সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে।