অনেকেই জানেন না যে কর-মুক্ত বিনিয়োগে টাকা রাখলে আপনি করের থেকে অনেক টাকা সাশ্রয় করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কিছু সরকারী বন্ড এবং কর-মুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড থাকে যা আপনার আয়ের উপর কর আরোপ করে না।
এই বিনিয়োগগুলি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত এবং করের বোঝা কমিয়ে আপনার নিট আয় বাড়ায়। আপনি একটি উপযুক্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দ্বারা এই সুবিধাগুলি বেশি পরিমাণে নিতে পারেন।
সুত্র: বাংলাদেশ কর কমিশন রিপোর্ট, ২০২৩
ব্যক্তিগত অবদান যেমন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন সরকারী সঞ্চয় প্রকল্পে ভরতি ইত্যাদির জন্য সরকার স্বতন্ত্র কর ছাড় দেয়। এটি কর দাতাদের জন্য একটি প্রলোভন যা ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে সহায়ক।
আপনি যদি সঠিকভাবে এই স্কিমগুলি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার ট্যাক্স বেস কমে যাওয়া ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় বাড়ানো সম্ভব। তবে সাবধান থাকতে হবে যে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম না করেন।
সুত্র: জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্প পরিকাঠামো, ২০২২
স্বাস্থ্যবীমা প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য আপনার আয়ের কিছু অংশ কর ছাড়ের আওতায় পড়ে। এই সুবিধা আপনার ব্যক্তিগত আর্থিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্রমণ, চিকিৎসা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচ কমাতে স্বাস্থ্যবীমার গুরুত্ব অপরিসীম, ফলে কর সুবিধাও পাওয়া যায়। একে উপেক্ষা করা উচিত নয় বিশেষত যারা পরিবারের জন্য নিরাপত্তা দরকার তাদের জন্য।
সুত্র: স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রণালয়, ২০২৩
শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করেও কর ছাড় পাওয়া যেতে পারে। যেমন, শিক্ষা ঋণ সুদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ছাড় পাওয়া যায় যা আপনার করের দায় কমায়।
এছাড়াও, শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠানগুলিতে দান কর ছাড়ের আওতায় পড়ে। তাই ভবিষ্যতে শিক্ষার জন্য টাকা সঞ্চয় করতে চাইলে এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
সুত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর রিপোর্ট, ২০২3
বাড়িভাড়া থেকে লাভজনকভাবে কর হ্রাস করা সম্ভব। আপনি যদি নিজের বাড়িতে ভাড়া দেন, তাহলে কিছু খরচ কর থেকে কর্তিত হতে পারে যেমন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।
এটি আপনাকে ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের উপর কর বোঝাকে কমাতে সাহায্য করে এবং আপনাকে বাড়ির অংশীদারি ক্ষেত্রেও লাভবান করে।
সুত্র: রিয়েল এস্টেট কর গাইড, ২০২২
আপনি যদি কিছু স্বল্পমূল্যের সম্পদ বিক্রি করেন, তাহলে করের ক্ষেত্রে সুবিধা নিতে পারেন। বিশেষ করে, নির্ধারিত সীমার নিচে সম্পদ বিক্রি করলে কর দিতে হয় না।
এই কৌশল আপনাকে অর্থায়নে নিয়ন্ত্রিত উন্নতি আনতে সাহায্য করে। বার্ষিক কর রিটার্ন দাখিলের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।
সুত্র: বাংলাদেশ অর্থ বিষয়ক অধিদপ্তর, ২০২3
ব্যবসায়ীর জন্য কর ভ্যাট সংক্রান্ত খরচ সঠিকভাবে হিসাব করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে না দেখালে অতিরিক্ত কর দিতে হয়।
কাজেই খরচের প্রমাণপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং অন্যান্য উপযুক্ত উৎস দ্বারা তথ্য সংগৃহীত করা নিশ্চিত করতে হবে। এটি কর কর্তনের বোঝাকে অনেক কমিয়ে দেয়।
সুত্র: ব্যবসা কর গাইডলাইন, ২০২৩
দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা লোকাল এনজিওর জন্য অর্থ দান কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ রাখে। আপনার আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ দানের মাধ্যমে আপনি কর কমাতে পারেন।
এসব দানের রসিদ সংরক্ষণ করা আবশ্যক, কারণ এগুলো কর রিটার্নে যুক্ত করতে হয়। পজিটিভ করের দৃষ্টিভঙ্গী তৈরিতে দাতব্য দানের গুরুত্ব অপরিসীম।
সুত্র: বাংলাদেশ দাতব্য আইন, ২০২২
সঠিক কর পরিকল্পনা করলে আপনার মোট করের বোঝা অনেক কমে আসবে। কর পরিকল্পনা শুধুমাত্র বড় ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও প্রযোজ্য।
তাই ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় পেশাদার ট্যাক্স কনসালটেন্টের সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় বাড়াতে সহায়তা করবে।
সুত্র: ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং ইনস্টিটিউট, ২০২৩
পেনশন ফান্ডে নিরাপদ বিনিয়োগ কেবল ভবিষ্যতে আর্থিক সুরক্ষা দেয় না, এটি করসামঞ্জস্যতাও বৃদ্ধি করে। বর্তমানে পেনশন স্কিম থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ছাড় পাওয়া যায়।
নিয়মিত পেনশন সমূহে অর্থ যোগ করার মাধ্যমে আপনি কর কমাতে সক্ষম হবেন। ফলে আর্থিকভাবে স্থিতিশীলতার পথে অসাধারণ অবদান রাখবে।
সুত্র: সামাজিক নিরাপত্তা অধিদফতর রিপোর্ট, ২০২৩