সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনযাত্রার উপর পড়ে এবং এখন এটি আমাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্তগুলিতে অসম্ভবভাবে গাঢ় রূপ নিচ্ছে। এই আর্টিকেলে, আমরা জানবো কিভাবে সামাজিক মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাব আমাদের অর্থনৈতিক চেতনাকে বদলে দিচ্ছে।
আপনার পছন্দের দৃষ্টিকোণ থেকে শুরু করা যাক। বর্তমানে, সারা বিশ্বে অসংখ্য অল্প বয়সী এন্টারপ্রেনারদের দেখা যায়, যারা সামাজিক মাধ্যমে তাদের প্রভাবের মাধ্যমে বাজার নিয়মের খেলোয়াড় হয়ে উঠছে। ২০২২ সালে, মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান 'হাবস্পট' রিপোর্ট করে যে, ৭০% যুবক প্রজন্ম ইনফ্লুয়েন্সারদের পরামর্শ টুল হিসেবে ব্যবহার করে।
বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বিষয়টা ভিন্ন; অনেকেই তাদের পণ্য ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে প্রচার করে। এই বিপণন কৌশল গত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নাইকির একটি রাঁজ্যে বাহির হয়েছিল "সেলফি" কৌশল। সেখানে তারা তরুণ ইনফ্লুয়েন্সারদের বেছে নিয়েছিল তাদের পণ্য প্রদর্শনের জন্য।
আমরা যে সামাজিক মিডিয়া কনটেন্ট দেখে প্রভাবিত হই, তা আমাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও অন্যরকম প্রভাব ফেলে। ইনস্টাগ্রামে যে ব্র্যান্ডগুলির উপস্থিতি বেশি, সেটি তাদের প্রতি অধিক আগ্রহ তৈরি করে। বাজার গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫% গ্রাহক ইনফ্লুয়েন্সারদের মন্তব্যের মতো বুঝতে পেরে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
বাঙালি সমাজে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত মূলত পারিবারিক সাহায্যের মাধ্যমে হয়, কিন্তু সামাজিক মিডিয়ার আসার সাথে সাথে এটি একটি পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছে। আগে যারা ৫০% প্রশংসার মাধ্যমে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতেন, এখন তাদের স্থান দখল করেছেন ইনফ্লুয়েন্সাররা।
বাজারের চিত্র বদলে দেওয়ার উদাহরণটিও রয়েছে। ফেমাস ইনফ্লুয়েন্সার এবং উদ্যোক্তা 'বোহো মাইয়া' সামাজিক মিডিয়াতে বিদ্যমান বিনিয়োগের মাধ্যমে তার দশ লক্ষ পাঠককে বিস্তৃত করেছেন। তাঁর কী সংগ্রাম ছিল? তিনি নিজেদের বিনিয়োগের কৌশল কিভাবে শেয়ার করছেন, তার ব্যবহারিক উদাহরণ থাকলে মানুষ কিভাবে উৎসাহিত হচ্ছে, সেটি আকর্ষণীয়।
অধিকাংশ তরুণ বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের অধিকাংশ আর্থিক স্কিল উন্নত নয়। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, ৬৮% যুবক তাদের বিনিয়োগ পরিচিতির জন্য ইনফ্লুয়েন্সারদের দিক নির্দেশনা প্রাধান্য দেয়। এক শিক্ষার্থী বলেছেন, "আমি শুনেছি কোন স্টক কিনতে হবে ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছ থেকে, কারণ তারা সেটা করেন।"
অবশ্যই, বিজ্ঞান এবং গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি পাঠকের আদেশকে প্রত্যাশিত তুলনা করতে সাহায্য করে। উদাহরণ হিসেবে, ইউনিভার্সিটি অফ স্টেট অফ অ্যারিজোনা গবেষাপত্রে বলা হয়েছে যে, পাবলিক ইনফ্লুয়েন্সারদের মানসিক অবস্থার কারণে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রসবিত প্রভাব ফেলে।
সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সময়, ইনফ্লুয়েন্সারদের তৎপরতা সঠিকভাবে অপারেট করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ইনফ্লুয়েন্সার তার দর্শকদের বিনিয়োগ সম্পর্কে অবহিত না করে একটি সিদ্ধান্তের উপর জোর দিতে পারেন। এটি সমস্যার তৈরি করতে পারে, যেমন সাম্প্রতিককালীন বিটকয়েনের ক্ষেত্রে।
আরো কিছু পরিসংখ্যান আমদানি করে বলছি, ইউরোপীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ডেল্লা' অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩০% তরুণ বিনিয়োগকারী পরিবর্তিত ইনফ্লুয়েন্সারের কারণে বিনিয়োগ বন্ধুরত করতে বাধ্য হবে।
আপনার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গবেষণা করা খুবই জরুরি। ইনফ্লুয়েন্সারদের সম্পর্কে নির্ভরশীল হওয়া মানে আপনার কৌশলগুলির উপর দুর্বলতা সৃষ্টি করা। আপনি কি জানেন, ইনফ্লুয়েন্সাররা অনেক সময় পেইড ম্যানেজমেন্ট সেবা ব্যবহার করে? তাই তাদের বক্তব্যগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।
আমরা কি মনে করি, সামাজিক নির্মাণ কৌশলে বিনিয়োগ করলে সেটি সুখকর হতে পারে? এটি নিশ্চয়ই আপনার আগামী ভবিষ্যতে আশাপ্রদ লাভের নিশ্চিততা নয়। এটি আদর্শ এবং বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি করতে সক্ষম।
বিনিয়োগে সফলতার জন্য বাস্তব পরামর্শ পেতে স্থানীয় ফাইনান্সারদের সাথে আলোচনা করা অনেক ভালো। এটি আপনার চাহিদা বুঝবে এবং উপযুক্ত কৌশল প্রণয়ন করবে। ইনফ্লুয়েন্সার সম্ভবতা সুন্দরভাবে গড়ে তুলে, কিন্তু তারা সঠিক তথ্য দিতে পারে না।
সামাজিক মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে সঠিকভাবে মুক্তি পাওয়ার উপায়ই হলো আপনার সেক্টরে গভীরভাবে ঢোকা। যদি আপনি তাদের বিষয়ে শুধু শুনে বিনিয়োগ করুন তবে ইতিবাচকতার পরিবর্তে আপনি নেতিবাচকতাই পাবেন।
আমরা কিভাবে ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রত্যাশিত চিত্র তৈরি করে আমাদের সদিচ্ছাকে বিলুপ্ত করতে পারি? সংগ্রাম করে থাকুন, মিনিসট্রির প্রবৃত্তি ও ভালো করে প্রমাণিত পরীক্ষা করার মাধ্যমে। সমাজে সমাধানযোগ্য কিনা তা জেনে রাখা।
এখনকার সমাজে, সামাজিক মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা আমাদের বিনিয়োগের চেতনায় অনেক কিছু বদলানোর জন্য দায়ী। আমাদের উচিত তাদের পরামর্শকে প্রাধান্য দেওয়া, তবে সেই সঙ্গে নিজেদের বিশ্লেষণী মননকে জাগরিত রাখা। কিছু মামলাতে, ভুল তথ্যও লাখখানেক মানুষকে বিটকয়েন বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আপনি বয়সে যেই হোন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, সঠিক গাইডলাইন খুঁজে নেওয়া এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, এটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।