অদ্ভুত এবং অতীন্দ্রিয় বিষয়গুলোর উপর বিনিয়োগ করার চিন্তা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে, তবে এখানে একটি উদ্ভট সত্য রয়েছে: এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলি আমাদের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে। আধুনিক ব্যবসায়ের উন্নতি এবং বাজারের অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের মধ্যে, অদ্ভুততার শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা সৃজনশীলতা ফুলিয়ে তুলতে পারি এবং কখনও কখনও সফল বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারি।
আমরা যখন 'অতীন্দ্রিয়' বলতে কি বোঝি, তখন সাধারণত মাথায় আসে ভুত বা অন্য দশার সত্তা। কিন্তু আজকাল বৈজ্ঞানিক গবেষণাও দেখায় যে আমাদের অবচেতন মনের অস্বাভাবিক চিন্তা প্রক্রিয়া আমাদের একাধিক সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করতে পারে, এর মধ্যে আর্থিক দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত।
লেখক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বলছে, আমি প্রায়শই ভবিষ্যতের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অতীন্দ্রিয় অনুসন্ধানে প্রবেশ করি। আমার ২৫ বছর বয়সী এক বন্ধু, আলিম, ধারাবাহিকভাবে শেয়ারের বাজারের চাহিদা এবং প্রস্তাবের ভবিষ্যদ্বাণী করতে তার খণ্ডকালীন কাজের সময় জ্যোতিষীর সাহায্য নেয়। যদিও এটি অদ্ভুত শোনাতে পারে, সে বলছে এর ফলস্বরূপ তার বিনিয়োগে ৩০% বৃদ্ধি ঘটেছে!
যদিও আমরা কলা, বিজ্ঞান ও দর্শনের উপর নির্ভরশীল, কখনো কখনো ভৌতিক বিশ্বাসেরও ভূমিকা থাকে। ২০১২ সালে 'সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স' পত্রিকায় গবেষণা দেখায় যে মানুষ যাদের ভৌতিক গতিবিধির প্রতি বিশ্বাসী তারা স্টক মার্কেট সম্পর্কিত ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অতীন্দ্রিয় দৃষ্টিকোণ থেকে, তারা অনেক বেশি খোলামেলা মানসিকতার মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে, যা তাদের আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
অতীন্দ্রিয় ধারণাগুলি কিভাবে নিউজিল্যান্ডের 'ক্রিমিনাল অ্যানালাইসিস' স্টার্টআপে কাজ করেছে তার একটি উদাহরণ: প্রতিষ্ঠাতা দলের একজন, যিনি প্রেমে পড়েছিলেন একজন তাণ্ডবকারী জ্যোতিষীর, তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছিলেন। তারা তাদের ব্যবসার কৌশল গঠনে বড় অংশ হিসাবে 'জ্যোতিষী বিশ্লেষণ' অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই অদ্ভুত কৌশলের জন্য তাদের গ্রাহকসংখ্যা এবং বিক্রি বেড়ে যায় ৪০%।
এখন, আপনাকে চিন্তা করতে হতে পারে: আসলে লাভ ও ক্ষতি সৃষ্টিতে সবকিছুই কি 'ভাল?' সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফল দেখায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেহেতু তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, অতীন্দ্রিয় বা ঐশ্বরিক ধারনার গ্রহণযোগ্যতা এখানে একটি সহায়ক হাতিয়ার হতে পারে। গবেষণা প্রকাশ করে যে যেসব বিনিয়োগকারী অতীন্দ্রিয় বিশ্বাসে অভ্যস্ত তারা প্রায় ২০% বেশি নমনীয়তা বজায় রাখতে পারে বাজারের অস্থিরতার সময়।
আমাদের পরিবারের একজন 'নিয়মিত বিনিয়োগকারী' সেলিনা, যিনি সবসময় তার উচ্চ বিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর বরাদ্দের একটি অংশ অতীন্দ্রিয় বইয়ের মধ্যে কঠোর যোগাযোগ গড়ে উঠেছে যা তাকে পরিচালনা করেছে। প্রতি সপ্তাহে তিনি আধ্যাত্মিক বই পড়ি এবং তার আর্থিক পরিকল্পনার সাথে যুক্ত মন্তব্যগুলো নোট করেন। ফলস্বরূপ, তাঁর পোর্টফোলিও গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বিনিয়োগ করবেন কিনা তা নির্ধারণে সৃজনশীলতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। আমরা যদি অতীন্দ্রিয় স্বাধীনতার সাথে সেই সৃজনশীলতা বাড়িয়ে তুলি, তবে পার্থক্য বিস্তৃত হতে পারে। তবে আপনার অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বাসকে নিজের কাছে রেখে চিন্তা করুন যে আপনি স্বাস্থ্যকর চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করুন।
অন্যদিকে, অতীতের অভিজ্ঞতা শিক্ষার অংশ। বহু বছর আগে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ছোট শহরের সমাজের অর্থনীতি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং মানুষ যখন হতাশায় ছিল, তখন একটি স্থানীয় ধর্মীয় নেতা বলেছেন যে “শক্তিমান আত্মা গুলো আমাদের রক্ষা করছে।” আজকাল, স্থানীয় ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এবং এটি অনেকাংশেই স্থানীয় মানুষের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার ফল।
অবশেষে, আপনার অর্থনৈতিক ভবিষ্যত যতো ‘অদ্ভুত’ বা ‘অতীন্দ্রিয়’ মনে হোক না কেন, আপনি সঠিকভাবে প্রস্তুত না হলে, এটি দুর্বল হয়ে যাবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সঠিক পথ অবলম্বন করা আবশ্যক। অতীন্দ্রিয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা যে উত্সাহ কিন্তু চিন্তার অভাবকে খুঁজে পাব তাতে আমরা নিজেদের সুবিধা পাই।
তবে একই সময়ে, মনে রাখবেন যে দৃষ্টি প্রকৃতিগত এবং ক্ষণস্থায়ী। চূড়ান্ত বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার টাকা রক্ষার জন্য তথ্য এবং বিশ্লেষণ ব্যবহার করার চেয়ে ভালো কিছু নেই, সেই সময় 'ভুতের' দিকে নজর দিন এবং আপনার সৃষ্টি ও বিশ্বাসের শক্তিকে কাজে লাগান।
সহজাতভাবে, বিনিয়োগের জন্য অদ্ভুত চিন্তাভাবনা গ্রহণ মানে নাকি সেটা সাফল্যের চাবিকাঠি? সম্ভবত, আমরা সবাই একসাথে জানি যে জীবনের অদ্ভুত প্রান্তগুলি আমাদের সাফল্য এবং ব্যর্থতার ভাগ ভাগ করে। তাই, এটি দেখুন, বিশ্বাস করুন, এবং উপভোগ করুন - বিনিয়োগের সঙ্গে অদ্ভুত কাজ করতে পারবেন।