গত পাঁচ বছরে ফিনটেক সেক্টরে রোবো-অ্যাডভাইজার প্ল্যাটফর্মগুলি বিপ্লব ঘটিয়েছে। ওয়েল্থফ্রন্ট হলো এর মধ্যে অন্যতম সেরা উদাহরণ, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ পরিচালনা করে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী পোর্টফোলিও সাজায়। ব্যবহারকারীরা খুব কম খরচে ব্যক্তিগতকৃত বিনিয়োগ পরামর্শ পেতে সক্ষম হন।
ওয়েল্থফ্রন্টের ব্যবহারকারী ইন্টারফেস অত্যন্ত ইউজার-ফ্রেন্ডলি এবং এটিতে বুদ্ধিমান অ্যালগরিদমের সাহায্যে বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই ট্যাক্স লস হার্ভেস্টিং এবং ৫৯৫৯ প্ল্যানসের সুবিধা নিতে পারেন।
সুত্র: Forbes, 2023 অনুসারে, ওয়েল্থফ্রন্টের গ্রাহক সংখ্যা ও পরিচালিত সম্পদের পরিমাণ গত বছর প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে স্বয়ংক্রিয় বিনিয়োগ প্রযুক্তি বাজারে ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ব্লকচেইন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ক্রিপ্টো সম্পদ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলিও উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। কইনবেস ২০১৮ সালের পর থেকে নতুন ধরনের বৈশ্বিক লেনদেন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এসেছে।
কইনবেসের ওয়ালেট সলিউশন এবং ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টমেন্ট সেবা ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি সরাসরি বাজার থেকে ক্রিপ্টো কিনতে ও বিক্রি করতে সাহায্য করে।
আর্থিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে ২০২০-২০২৪ সালের মধ্যে ক্রিপ্টো সম্পদের বাজার মূল্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অন্যতম বড় অবদান কইনবেসের আধুনিক সেবা।
ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় মিন্ট একটি বহুল ব্যবহৃত ডিজিটাল টুল, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর ব্যয় ও আয় সংগ্রহ করে বাজেট তৈরিতে সহায়তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে এটি নতুন নতুন ফিচার যোগ করেছে।
মিন্ট ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য এক জায়গায় দেখতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে খরচ শ্রেণীবদ্ধ হয়। এটি ব্যয় কমানোর জন্য ব্যক্তিগতকৃত পরামর্শও দেয়।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে মিন্ট ব্যবহারকারীদের ৭৫% তাদের মাসিক খরচে ভাল নিয়ন্ত্রণ আনতে পেরেছেন, যা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অন্যতম কার্যকরী টুল হিসেবে প্রমাণ করে।
করের জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও, টার্বোট্যাক্স বিগত বছরগুলোতে স্বয়ংক্রিয় কর ফাইলিং প্রযুক্তি দিয়ে এই সমস্যা সহজ করে তুলেছে। এটি ব্যবহার করে সহজেই ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দেওয়া যায়।
টার্বোট্যাক্সের AI ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহারকারীদের সকল সম্ভাব্য কর ছাড় আরোপণ ও সুবিধাসমূহ খুঁজে পেতে সাহায্য করে, যা অর্থ সাশ্রয়ে সহায়ক।
Intuit-এর রিপোর্ট অনুসারে, ২০২২ সালে টার্বোট্যাক্সের মাধ্যমে সর্বমোট ৪০ মিলিয়ন ট্যাক্স রিটার্ন সফলভাবে ফাইল হয়েছে, যা যেকোনো কর সলিউশন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যা।
রোবিনহুড গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগ জগতে নবদিগন্ত খুলেছে। এটি নতুনদের জন্য বিনিয়োগকে সহজ ও কম খরচের করে তুলেছে, যেখানে ফ্রি স্টক ট্রেডিং অন্যতম প্রধান সুবিধা।
রোবিনহুডের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অত্যন্ত ব্যবহারবান্ধব এবং ইনস্ট্যান্ট ফান্ড ডিপোজিট, প্রিমার্কেট ট্রেডিংয়ের মতো ফিচার সংযোজন করে নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস অনুসারে, রোবিনহুডের মাধ্যমে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ২২ মিলিয়ন নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে প্রবেশ করেছে, যা বিনিয়োগ খাতের জন্য বিরাট প্রভাব ফেলেছে।
স্কোয়ার ক্যাশ অ্যাপ ডিজিটাল পেমেন্টে বিপ্ল্রব ঘটিয়েছে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত লেনদেনে এর জনপ্রিয়তা উর্ধ্বগতি পেয়েছে। দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের জন্য এটি একটি নতুন মান তৈরি করেছে।
এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মোমেন্টেই টাকা পাঠাতে ও নিতে পারেন, যা ছোট ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ক্রিপ্টো ম্যানেজমেন্ট ফিচারও সংযুক্ত রয়েছে।
Statista এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে স্কোয়ার ক্যাশ অ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।
Qapital হলো একটি সেভিংস অ্যাপ যা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ব্যয়ের গুরুত্ব বুঝে স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয় শুরু করে। এটি গেমিফিকেশন ও কাস্টম সেটিংসের মাধ্যমে সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে।
ব্যবহারকারীরা তাদের খরচের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুল সেট করতে পারে যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছোট ছোট টাকার সঞ্চয় হয়। এতে বিনিয়োগের বিকল্পও রয়েছে।
২০২২ সালে Qapital-এর ইউজার বেইস ২ মিলিয়নের নিচে থাকলেও, গত বছর এর সক্রিয়তা ও সঞ্চয়ের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আর্থিক স্বাবলম্বিতার জন্য বড় একটি পদক্ষেপ বলে ধরা হয়।